নাটোর সম্পর্কে বিস্তারিত

‘বিল চলন গ্রাম কলম কাঁচাগোল্লার খ্যাতি
অর্ধ বালেশ্বরী রানী ভবানীর স্মৃতি
উত্তরা গণভবন রাজ-রাজন্যের ধাম
কাব্যে ইতিহাসে আছে নাটোরের নাম’।
ঐতিহ্যের জৌলুস, অতীতের রাজ-রাজন্যের স্মৃতি, প্রাচীনত্ব আর ইতিহাসের সোনালি দিনগুলোর নীরব সাক্ষী বরেন্দ্র অঞ্চলে বিখ্যাত জেলা নাটোর। জেলাটি রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত।

নামকরণের ইতিহাস

জনশ্রুতি আছে এখানকার কোনো এক স্থান ব্যাঙ সাপকে গ্রাস করেছিল এবং তা দেখে কয়েকজন বালিকা নৃত্য করেছিল। এ নৃত্যকে উপলক্ষ করে ওই স্থানের নাম হয় নাট্যপুর। পর্যায়ক্রমে নাট্যপুর, নাটাপুর, নাট্টর ও নাটোর হয়েছে। অন্য তথ্য থেকে জানা যায়, বর্তমান জেলা সদরের অবস্থান এত নিচু ছিল যে, এখানে পায়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব। তাই স্থানটিকে বলা হতো ‘নাতর’ (না-অসম্ভব এবং তর-গমন); যা থেকে কালক্রমে নাটোর নামের উৎস হয়েছে। অন্য অভিমত হচ্ছে জেলা সদরের পাশ দিয়ে প্রবহমান নারদ নদীর নাম থেকে কালক্রমে নাটোর জেলার নামকরণ হয়েছে।

আয়তন ও অবস্থান

আয়তনের ভিত্তিতে নাটোর জেলা বাংলাদেশের ৩৬তম বৃহত্তম জেলা। এই জেলার মোট আয়তন ১৮৯৬.০৫ বর্গ কিমি, যা সমগ্র বাংলাদেশের মোট আয়তনের ১.২৮%। ২৪০২৫ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৪০৫র্৮ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮০০র্১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৮৮০৩০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। নাটোর জেলার উত্তরে নওগাঁ ও বগুড়া জেলা। দক্ষিণে পাবনা ও বগুড়া জেলা, পূর্বে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে রাজশাহী জেলা।

প্রশাসনিক পটভূমি

প্রাচীনকালে এ অঞ্চলটি পুণ্ড্র রাজ্যের অন্তর্গত পুণ্ড্রবর্ধন নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে মুঘল আমলে শাসনব্যবস্থা জমিদারিতে পরিণত হয়। নাটোর জমিদারির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা রঘুনন্দন পুঠিয়া রাজার উকিল হিসেবে নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর দরবারে কাজ করতেন। রঘুনন্দনের অগ্রজ রামজীবন জমিদারির প্রশাসনে সুখ্যাতি অর্জন করেন এবং এর জন্য নবাব ১৭০৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে অনেক জমিদারি পুরস্কার হিসেবে প্রদান করেন। ১৭৩০ সাল পর্যন্ত- রামজীবন এ জমিদারি পরিচালনা করেন। তার মৃত্যুর পর দত্তক পুত্র রামকান্ত- জমিদারি লাভ করে। ১৭৪৮ সালে রাজকাণ্ডের মৃত্যুর পর তার পত্নী রানী ভবানী জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব পান। তার রাজধানী ছিল রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, রংপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদহ জেলায়। ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে বাংলা ইংরেজদের হাতে চলে যায়। ইংরেজ বেনিয়ারা এদেশে তাদের শাসন কার্যকর করতে চাইলেও রানী ভবানী ইংরেজদের সম¯- আধিপত্য অস্বীকার করে স্বাধীনভাবে তার জমিদারি পরিচালনা করে। ১৮০২ সালে রানী ভবানীর মৃত্যুর পর পর্যায়ক্রমে শাসনভার ইংরেজদের হাতে চলে যায়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর নাটোরসহ এতদঞ্চল পূর্ব পাকিস্থানের অংশ হিসেবে শাসিত হতে থাকে। দেশ স্বাধীন হলে রাজশাহী বিভাগের মহকুমা হিসেবে শাসিত হয় এবং সবশেষে ১৯৮৪ সালে এটি জেলায় পরিণত হয়। বর্তমানে নাটোর জেলায় ৬টি উপজেলা, ৪টি পৌরসভা, ৫২টি ইউনিয়ন, ৩৬টি ওয়ার্ড, ৯৩টি মহল্লা, ১২৭২টি মৌজা ও ১৩৭৭টি গ্রাম আছে। উপজেলাগুলো হচ্ছে নাটোর সদর, গুরুদাসপুর, লালপুর, বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম ও সিংড়া।

নদ-নদী

আত্রাই, বড়াল, নারদ, নন্দকুঁজা ইত্যাদি । চলনবিল জেলার প্রধান বিল।

জলবায়ু

সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ৩৭.৮০ সে. এবং সর্বনিম্ন ১১.২০ সে.। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১৮৫২ মিমি।

দর্শনীয় স্থানসমূহ

উত্তরা গণভবন (সাবেক দীঘাপাতিয়া রাজপ্রাসাদ) চলনবিল, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল, বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান লালপুর, দয়ারামপুর, রাজবাড়ি, লালপুরের বুধপাড়া কালীমন্দির, হুরুম চৌধুরীর বাগান, গুরুদাসপুরের চলবনবিল জাদুঘর ইত্যাদি।

যোগাযোগ

ঢাকা থেকে সড়ক পথে হানিফ, এনপি এলিগেন্স, মডার্ন প্রভৃতি পরিবহনে নাটোর যাওয়া যায়। ঢাকা-নাটোরের দুরুত্ব ২২৩ কিমি এবং বাসে যেতে প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় লাগে।

রানী ভবানী রাজপ্রাসাদ

নাটোর জেলা শহরের বঙ্গজ্জল এলাকায় রয়েছে রানী ভবানী রাজপ্রাসাদ। তোরণ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়বে রাজবাড়ির কামান। রাজবাড়িটির ভেতরে রয়েছে ৬টি দিঘি। আর পুরো রাজবাড়িটি বাইরের দিক থেকে লেক আকৃতির দিঘি দিয়ে ঘেরা। ভেতরে রয়েছে বড় তরফ ভবন নামে পরিচিত রানী ভবানীর রাজপ্রাসাদ। সপ্তদশ শতাব্দিতে নির্মিত সুরম্য এ ভবনটি আজও সবার দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম। জানা যায়, রাজা রামজীবন ১৭০৬-১৭১০ সালের কোনো এক সময় পুঠিয়ার রাজার নিকট থেকে প্রায় ১৮০ বিঘার একটি বিল দান হিসেবে গ্রহণ করে সেখানে এই রাজপ্রাসাদ গড়ে তোলেন। রাজা রামজীবনের একমাত্র ছেলে কলিকা প্রসাদ মারা গেলে তার দত্তক ছেলের সঙ্গে রানী ভবানীর বিয়ে দেন।

চলনবিল

দেশের সবচেয়ে বড় বিল চলনবিলের একটি অংশ পড়েছে নাটোরে। জেলার সিংড়া উপজেলায় রয়েছে চলনবিলের বড় একটি অংশ। এছাড়া সিরাজগঞ্জের হাটিকুমড়ুল থেকে বনপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ সড়ক তৈরি হয়েছে চলনবিলের ওপর দিয়েই। শীতে এসব বিলের পানি শুকিয়ে গেলেও বর্ষায় থাকে পরিপূর্ণ। সড়কের দু’পাশে এ সময় যেদিকে চোখ যায় শুধু অথৈ জলরাশি। নিজস্ব গাড়িতে গেলে যাত্রাপথেই চলনবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব।

চলনবিল জাদুঘর

জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর গ্রামে আছে চলনবিল জাদুঘর। স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল হামিদ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নিজ বাড়িতে ১৯৭৮ সালে গড়ে তুলেছেন বিচিত্র এ জাদুঘর। চলনবিলে প্রাপ্ত নানা নিদর্শন, মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম ছাড়াও এখানে আছে অনেক দুর্লভ সংগ্রহ। নাটোর থেকে বাসে গুরুদাসপুর উপজেলায় এসে সেখান থেকে নদী পার হয়ে রিকশায় আসা যাবে খুবজিপুর গ্রামের এ জাদুঘরে। শনিবার জাদুঘরটি বন্ধ থাকে।

হাইতি বিল

জেলাশহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে নলডাঙ্গা উপজেলায় আছে হাইতি বিল। প্রায় ৪৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ বিলটি দেশের সবচেয়ে গভীর বিল। প্রায় বারো মিটার গভীর এ বিলে সারা বছরই পানি থাকে। তবে বর্ষায় পানির পরিমাণ বেড়ে যায় অনেক বেশি।

ভারতবর্ষের ইতিহাসে নাটোর একটি বিশিষ্ট স্থানের নাম । এই নাম তার শাসকশ্রেণী এবং তার অধিবাসীদের জীবনসংগ্রাম আর সংস্কৃতির কারণেই ইতিহাস বিখ্যাত । পাঠান-মোঘল-ইংরেজ এমনকি পাকিস্তানি দুঃশাসনের ইতিহাসে যুগে যুগে শোষণ বঞ্চণা আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে আত্ম অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে উল্লেখযোগ্য হয়ে আছে । ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৬২ এর সাম্প্রদায়িক শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন , ৬৬ এর ছয় দফার সমর্থনে আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান এবং ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে নাটোরবাসির অবদান দেশের অপরাপর জেলাগুলোর চেয়ে কম নয় । সে কারণে নাটোর ঐতিহাসিকভাবে শুধু ভারতবর্ষের ইতিহাসেই নয়, সভ্য দুনিয়ার সকল দেশে তার স্বতন্ত্র্য পরিচিতি আছে ।

যোগাযোগ ব্যবস্থা

সড়ক পথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় সকল অঞ্চলের সাথেই এ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে। এই পথে ঢাকা থেকে নাটোর জেলায় পৌছানোর সবচেয়ে সহজ পথ হচ্ছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু-সিরাজগঞ্জ-নাটোর।

এছাড়াও রেল পথে ঢাকা কমলাপুর রেলষ্টেশন থেকে সরাসরি নাটোরে আসা যায়।

নদী পথে রাজধানী ঢাকার সাথে নাটোর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল নয়।

বাস: সংশ্লিষ্ট কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করতে হবে
সম্ভাব্য সময়সূচী: প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর
যাত্রী প্রতি ভাড়া: ২৫০-৪৫০/-

ট্রেন: নাটোর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে সংগ্রহ করতে হবে
সময়সূচী: বেলা ১২টা, দুপুর ৩টা, রাত ১২টা
যাত্রী প্রতি ভাড়া: ১৩৫-২৫০/-

নাটোর জেলার পত্র পত্রিকা সম্পর্কিত তথ্য

পত্রিকার নামঃ দৈনিক উত্তরবঙ্গ বার্তা
প্রকারঃ দৈনিক সংবাদপত্র
প্রকাশের সময়ঃ প্রথম প্রকাশ ১৫ মে ১৯৯৭
পত্রিকার প্রধানের নামঃ জনাব এ্যাডঃ মোঃ হানিফ আলী শেখ, সম্পাদক

পত্রিকার নামঃ দৈনিক জনদেশ
প্রকারঃ দৈনিক সংবাদপত্র
প্রকাশের সময়ঃ প্রথম প্রকাশ ০৮ মে ২০০৩
পত্রিকার প্রধানের নামঃ আলহাজ্ব এ্যাডঃ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

পত্রিকার নামঃ সাপ্তাহিক নাটোর বার্তা
প্রকারঃ সাপ্তাহিক পত্রিকা
প্রকাশের সময়ঃ প্রথম প্রকাশ ১৮ আগষ্ট ১৯৯২
পত্রিকার প্রধানের নামঃ বেগম ফজিলা নজরুল, সম্পাদক

এছাড়াও দৈনিক গণজীবন ও দৈনিক সংবাদপত্র নামের দুইটি পত্রিকা ছাপা হয়।

খেলাধূলা ও বিনোদন

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যেমনঃ চৈত্র সংক্রান্তি,রথযাত্রা, পৌস পার্বন, বাস্তপূজা,কালিপূজা,দশহারা, শিবরাত্রি, মহরম, পৌষ সংক্রান্তি ইত্যাদিতে পালাগান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

যাত্রা : বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব যেমনঃ দূর্গাপূজা, কালিপূজা উপলক্ষ্যে যাত্রা গান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
মেলা : জেলার বিভন্ন স্থানে প্রতি বছর চড়ক মেলা, চৈত্র সংক্রান্তির মেলা, নৌকা বাইচ মেলা, পৌষমেলা, বৃক্ষমেলা,কৃষিমেলা, বইমেলা , বৈশার্খী মেলা ঈদ মেলা ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

ভাষা ও সংস্কৃতিঃ

নাটোরের লোকজ সংস্কৃতির ভান্ডার সমৃদ্ধ, বৈচিত্র্য অফুরন্ত। যে কোনো প্রাচীন জনপদ সচরাচর লোকসংস্কৃতিতে ধনী হয়ে থাকে। নাটোর জেলাও তার ব্যতিক্রম নয়। নাটোরের শহরাঞ্চলের ক্ষুদ্র গন্ডী পেরিয়ে গেলেই পাওয়া যায় লোকজ সংস্কৃতির বেগবান ধারার খোঁজ।

অন্যদিকে আছে লোকজ বা গ্রাম্য ধাঁধা যাকে নাটোরের কোনো কোনো অঞ্চলে ‘মান’ বলা হয়। সাধারণ পল্লীবাসী মানুষকে মোটাবুদ্ধির বলে অবজ্ঞা করার যে স্বভাব আমাদের শহুরে পন্ডিতদের মধ্যে দৃশ্যমান, তার প্রকৃষ্ট প্রতিবাদ হচ্ছে পল্লীবাসী সাধারণ মানুষ কর্তৃক ধাঁধার সৃষ্টি। কোনো জিনিসকে বা বস্ত্তকে প্রত্যক্ষভাবে না বলে ধাঁধার মাধ্যমে প্রহেলিকা সৃষ্টি করে বলাটা একধরনের উচ্চাঙ্গের শিল্পসৃষ্টিও বটে।

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাঃ

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলেও নাটোর শহর শত্রুমুক্ত হয় ২১শে ডিসেম্বর ১৯৭১। ভারতীয় মিত্র বাহিনী লেঃ জেনারেল লছমন সিং ও বিগ্রেডিয়ার রঘুবীর পানুর কাছে পাক বাহিনীর মেজর জেনারেল নজর হোসেন শাহ ও বিগ্রেডিয়ার আহম্মদ আশরাফ সহ অন্যান্য পাকসেনারা নাটোরে আত্মসমর্পণ করে। নাটোরে আত্মসমর্পণকারী পাকবাহিনীর অফিসার ছিল ১৪১ জন। ১৯৮ জন জেসিও, ৫৫৫০ জন সাধারণ সৈন্য, ১৮৫৬ জন প্যারামিলিটারী সদস্য মোট ৯টি ট্যাংক, ২৫টি গান এবং ১০,৭৩৩টি ছোট অস্ত্র নিয়ে আত্মসমর্পণ করে। সত্যিকার অর্থে নাটোর পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয় ২১শে ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে। পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণের অনুষ্ঠানে তৎকালিন এমপি বাবু শংকর গোবিন্দ চৌধুরী এবং নাটোর মহকুমার তৎকালিন এসডিও জনাব কামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

নাটোর ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন ৭ নং সেক্টরের অধীন। যুদ্ধকালীন অবস্থায় অনেকে ভারতে প্রশিক্ষণে গেলেও পরবর্তীতে ভৌগলিক অবস্থার কারণে অনেকে নাটোরে ফিরতে ব্যর্থ হন। তাঁরা বিভিন্ন সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং শহীদ হন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, নাটোর ছিল পাক বাহিনীর ২নং সামরিক ক্যাথলিক মিশন। ক্যাথলিক মিশনের হত্যাযজ্ঞে নাটোর জেলায় ১৬টি গণকবর বর্তমানে চিহ্নিত আছে। এগুলো হলো নাটোর সদর থানার (১) ফুলবাগান, (২) রেজা-রঞ্জুর মাজার, (৩) ছাতনী ভাবনী, (৪) লিয়াকত ব্রীজ মাজার, (৫) আহম্মদপুর ব্রীজ কাদিম সাতুরিয়া, (৬) ছাতিয়ানতলা মোকরামপুর; লালপুর থানার (৭) গোপালপুর শহীদ সাগর, (৮) ওয়ালিয়ার ময়না; গুরুদাসপুর থানার (৯) উত্তর নাড়ীবাড়ী, (১০) বিয়াঘাট; সিংড়া থানার (১১) কলম, (১২) হাতিয়ানদহ এবং বড়াইগ্রাম থানার (১৩) ধানাইদহ ব্রীজের পার্শ্ব, (১৪) পারকোল- নগর, (১৫) কালীন ঘুম- মাঝগ্রাম ও (১৬) কালিকাপুর-জোয়ারী ইউপি।

নাটোর জেলায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আরো ব্যাপক। প্রাথমিক ভাবে সংকলিত এ ইতিহাস পর্যায়ক্রমে আরও পূর্ণাঙ্গ পরিসরে উপস্থাপন করার আশা রইল।

জেলার কৃতি সন্তানঃ

হযরত ঘাসী দেওয়ান

তাঁর আসল নাম জানা যায় না। লোকে তাঁকে হযরত ঘাসী দেওয়ান বলেই জানে। তাঁর আস্তানা ছিল সিংড়া উপজেলার চলনবিল এলাকার তিসিখালীতে। তিনি ছিলেন হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর অদেখা মুরীদ বা অনুসারী। প্রতি বছর চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দাহিয়ার বিলে ঘাসী দেওয়ানের দরগাহে ওরস বা বার্ষিক মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ রায়

জগদিন্দ্রনাথ রায় ছিলেন নাটোর বড় তরফের রাজা গোবিন্দনাথের স্ত্রী ব্রজসুন্দরীর দওক পুত্র। তার আসল নাম ব্রজনাথ। ১৮৬৮ খ্রীস্টাব্দের ২৬ শে অক্টোবর নাটোরের হরিশপুর নামক গ্রামে এক সম্ভান্ত গরীব হিন্দু পরিবারে তার জন্ম হয়। তাঁর পিতার নাম শীনাথ রায় এবং মাতার নাম প্রসন্নময়ী দেবী। এই কৃতি সন্তান কালক্রমে জ্ঞানী-গুনী রাজনীতিবিদ ও সমাজ সংগঠক হিসাবে নাটোর রাজপরিবারের ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছিলেন। জগদিন্দ্রনাথ ১৮৮৯ সালের ৯ই অক্টোবর রাজকার্যভার গ্রহণ করেন। বৃটিশ ভারতে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে প্রগতিবাদী চেতনার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল। সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তার বিশেষ অবদান ছিল। তার রচিত উল্লেখ যোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে ‘নূরজাহান’ ’সন্ধাতারা‘ প্রধান। মহারারজা সাংবাদিকতা ও করতেন। তিনি মানসী নামক একটি পত্রিকার ও সম্পাদনা করতেন। এ ছাড়া তার রচিত অনুবাদ সাহিত্য, ভ্রমন কাহিনী, জীবনী গ্রন্থ, কবিতা, গান এবং রাজনৈতিক প্রবন্ধ সমুহ বাংলাদেশে এককালে বিপুল আলোড়ন এনেছিল। তিনি ছিলেন সমাজ সেবক, প্রজাবৎসল এবং সত্যিকারের দেশ হিতৈষী। দানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অগ্রনী। তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি নাটোরের মহারাজা হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা। ১৮৯৩ সালে নাটোর ত্যাগ করে কলিকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯২৫ খ্রীস্টাব্দের ২৬ শে ডিসেমবর মোটর গাড়ীর ধাক্কায় গুরুতর আহত হন এবং ০৫ জানুয়ারী, ১৯২৬ খ্রীষ্টাব্দে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।

মহারানী ভবানী

নাটোর রাজবংশের প্রথম রাজা ছিলেন রামজীবন। রামজীবনের পালিত পুত্রের নাম ছিল রামকান্ত। বগুড়া জেলার অন্তর্গত আদমদিঘী উপজেলার ছাতিয়ান গ্রাম নিবাসী আত্মারাম চৌধুরীর একমাত্র কন্যা ভবানীর সাথে রামকান্তের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ভবানীর বয়স ছিল ১৫ বছর। ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামজীবনের মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর দেওয়ান দয়ারামকে রামকান্তের অভিভাবক নিযুক্ত করেন। রামকান্ত রাজা হলেও প্রকৃতপক্ষে রাজকার্যাদি সম্পাদন করতেন দেওয়ান দয়ারাম। ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামকান্ত পরলোক গমন করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর আলীবর্দী খান রানী ভবানীর উপরই বিস্তৃত রাজশাহী চাকলার জমিদারী পরিচালনার ভার অর্পন করেন। তিনি অত্যন্ত যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সাথে তার জমিদারী পরিচালনা করেছিলেন।

শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। তাঁর দানকৃত অর্থে বহু টোল পরিচালিত হত। জনসাধারনের সুবিধার জন্য তিনি অনেক হাট, বাজার এবং রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করেছেন এবং পানির কষ্ট নিবারনের জন্য বহু দীঘি ও পুকুর খনন করেছিলেন। ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে ৭৯ বছর বয়সে বড়নগর রাজবাড়ীতে রাণী ভবানী মৃত্যুবরণ করেন।

মরমী কবি আহসান আলী

আহসান আলী ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে নওগাঁ জেলার অন্তর্গত রাণীনগর উপজেলার লোহাচুড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্ণ নাম আহসান আলী খন্দকার। আধ্যাত্ব সাধনায় সিদ্ধি লাভ করে আহসান আলী সাধক পুরুষ বলে গণ্য হন। ৪৫ বছর বয়সে তিনি গুরু-প্রদত্ত খেলাফত লাভ করেন। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি জেলার সিংড়া উপজেলাধীন বজরাহার গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। আহসান আলীর বহুসংখ্যক তত্ত্ব সংগীত রচনায় লালন শাহ্ এবং পাঞ্জু শাহ্ এর প্রভাব যথেষ্ট কার্যকর ছিল। তিনি ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

স্যার যদুনাথ সরকার

১৮৭০ সালের ১০ ডিসেমবর সিংড়া উপজেলার ছাতারদীঘি ইউনিয়নের কড়চমাড়িয়া গ্রামে যদুনাথ সরকার জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮৯১ সালে ইংরেজী সাহিত্য ও ইতিহাস বিষয়ে অনার্স নিয়ে বিএ পাশ করেন। ১৮৯২ খ্রিটাব্দে তিনি ইংরেজীতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে এম এ পাশ করেন। কলিকাতার রিপন কলেজে অধ্যাপনা পদে চাকুরী জীবন শুরু করে ১৯৩০ সালে তিনি চাকুরী থেকে অবসর নেন। অবসরের পূর্বে ৫ বছর তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে আসীন ছিলেন। বৃটিশ সরকার তাঁকে ১৯২৬ সালে সি আই ই এবং ১৯২৯ সালে ‘নাইটগুড’ খোতাবে সম্মানিত করেন। ১৯৩৬ ও ১৯৪৪ সালে ঢাকা ও পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি. লিট উপাধি প্রদান করেন। ১৯৫৮ সালের ১৯ মে সোমবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

শরৎ রায়

শরৎ রায় ১৮৭৬ খ্রিটাব্দে দিঘাপতিয়া রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন রাজা প্রমথনাথ রায় বাহাদুর মাতা রাণী দ্রবময়ী। তিনি দয়ারামপুর এস্টেট-এ তিনশত বিঘা জমির উপরে একটি কৃষি খামার স্থাপন করেছিলেন যার নাম ‘রাণী দ্রবময়ী ফার্ম’। ১৯৩৬ খিস্টাব্দে গোপালপুরে স্থাপিত হয় ‘নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল’।

‘বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি’ এবং ‘বরেন্দ্র মিউজিয়াম’ স্থাপন তাঁর জীবনের অক্ষয় কীর্তি। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ এপ্রিল তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।

হাসার উদ্দীন কবিরত্ন

কবি হাসার উদ্দীনের জন্ম ১৯০৭ সালের ৮ই নভেমবর ।তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো সৌভাগ্য সোপান, মোড়লের বিচার, শুক্তিমালা, দ্বাদশী, সন্ধানে ইত্যাদি । ত্রার নিজ বাসভবন ’’ দীন মঞ্জিল‘ বড়গাছা, নাটোরে তিনি বর্তমানে বসবাস করছেন।

মাদার বখশ

১৯০৭ সালে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার স্থাপনদীঘি নামক গ্রামে মাদার বখশ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম বলিউদ্দিন মন্ডল। ১৯২৮ সালে তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এম,এ পাশ করেন এবং ১৯২৯ সালে তিনি বি,এল ডিগ্রী অর্জন করেন। প্রথমে ২-৩ বছর শিক্ষকতা করবার পর ১৯৩৪ সালে তিনি রাজশাহী জজ কোর্টে আইন ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তী জীবনে তিনি আইন ব্যবসায়ে প্রচুর খ্যাতি ও সুনাম অর্জন করেছিলেন। ওকালতি ছাড়াও তিনি রাজনীতি ও সমাজ সেবায় জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ১৯৪৬ সালে তিনি বঙ্গীয় আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান আইন সভার সদস্য হিসাবে জনগণের সেবা করতে সক্ষম হন। আইন সভার সদস্য থাকা সত্ত্বেও ১৯৫০ সালে তিনি রাজশাহী পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাপ্নিক ও স্রষ্টা। নানা ঘাত-প্রতিঘাত, বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করে মাদার বখশ এর বিশেষ প্রচেষ্টায় তদানিন্তন সরকার ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ ‘ রাজশাহী বিশ্ববিদালয় এ্যাক্ট’ পাশ করে এবং তারপর যথারীতি কার্যক্রম শুরু করে এবং তা বাস্তবায়িত হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগ চালু হলে তিনি শিক্ষকরূপে যোগদান করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এই পদে বহাল ছিলেন। স্বাধীনতার পর তাঁর নামানুসারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নাম মাদার বখশ রাখা হয়েছে। ১৯৬৭ সালের ২০ জানুয়ারী দূরারোগ্য ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

মোঃ মকসুদুর রহমান

সিংড়া উপজেলার ছিলামপুর গ্রামে ১৯৫১ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন প্রাবন্ধিক ও গবেষক। বর্তমানে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন, নাটোরের মহারাণী ভবানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান তওব ও নীতিমালা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।

রাধাচরণ চক্রবর্তী

সাহিত্যিক রাধাচরণ চক্রবর্তী ১৩০১ বঙ্গাব্দে ৮ই চৈত্র চৌকিরপাড় গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলির মধ্যে আলেয়া, দীপা, তিলকধারী, পল্লব, বুকের ভাষা, চক্রপাক, বৈরাগীর চর, সাওন, হোয়াইট কেবিন, ঝড়, তপ ও তাপ, ঘর মোহানী, কো-এডিকেশন, মৃগয়া, ভাঙন ইত্যাদি অন্যতম। বাংলা ১৩৪৫ সনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এয়ার ভাইস মার্শাল খাদেমুল বাসার

খাদেমুল বাসার ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলাধীন ছাতারবাড়ীয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হাসমতুল্লাহ শাহ্ এবং মাতার নাম মোছাঃ হাছিনা বেগম। খাদেমুল বাসার রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ১৯৫৩ সালে বিমান বাহিনীতে যোগ দেন এবং বিমান বাহিনী একাডেমী থেকে গ্রাজুয়েশান ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি ক্যাডেট হিসাবে যোগদান করে ধীরে ধীরে পদোন্নতির মাধ্যমে ১৯৭০ সালে উইং কমান্ডার পদ লাভ করেন। স্বাধীনতা লাভের পর তিনি ৩ বার পদোন্নতি লাভ করেন এবং ১৯৭৬ সালের মে মাসে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন এবং ঐ মাসেই তাঁকে এয়ার ভাইস মার্শাল পদে উন্নীত করা হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য তাঁকে ‘‘বীর উত্তম’’ খেতাব প্রদান করা হয়। ১ সেপ্টেমবর, ১৯৭৬ ঢাকা বিমান বন্দরে এক বিমান দুর্ঘটনায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

শঙ্কর গোবিন্দ চৌধুরী

শঙ্কর গোবিন্দ চৌধুরী এলাকার কৃতি সন্তানদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ১৯৭০ এবং ১৯৮১ সালে এম.পি নির্বাচিত হন। এছাড়াও ৩ বার পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ১৯৭৫ সালে গভর্ণর নির্বাচিত হন। তাঁর সম্মানে শঙ্কর গোবিন্দ চৌধুরী স্টেডিয়ামটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

কুবীর চান শাহ্‌

কুবীর চান শাহ্‌ এই এলাকায় আসেন ধর্ম প্রচারের জন্য। ধর্ম প্রচারের পর তিনি এখানেই ইন্তেকাল করেন। নাটোর সদর উপজেলার বাবুর পুকুর পাড় একডালা নামক স্থানে তাঁর মাজার আছে।

দেওয়ান সাগর

দেওয়ান সাগর ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এদেশে আগমন করেন। সদর উপজেলার দিঘাপাতিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে তাঁর মাজার বিদ্যামান।
পূর্বে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও নাটোরের কৃতি সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন কালী প্রসন্ন রায়, রামকান্ত রায়, রাণী হেমাঙ্গিনী দেবী, মোহিত কুমার মৈত্র, প্রমথ নাথ বিশী, গজেন্দ্রনাথ কর্মকার ও সমর পাল।